ঢাকার ভেতরে ফ্ল্যাটের দাম এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে। এই অবস্থায় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রেহাব) ঢাকার বাইরে সাশ্রয়ী ফ্ল্যাটের পরিকল্পনা করছে। সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব জানিয়েছে, সাভার, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ছোট ফ্ল্যাট করা হবে। ঢাকার ভেতরে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দামে ফ্ল্যাট করা সম্ভব নয় বলেও তারা জানিয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর রেহাবের নতুন সভাপতি আলী আফজাল ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক দায়িত্ব নিয়েছেন। গত ১৮ এপ্রিলের নির্বাচনের পর তাঁরা দায়িত্ব নিলেন। তাঁদের এজেন্ডায় সাশ্রয়ী আবাসনের পাশাপাশি কৃষিজমি রক্ষার কথা আছে।
দাম কমবে কেন ঢাকার বাইরে
ঢাকার ভেতরে জমির দামই ফ্ল্যাটের দামের বড় অংশ। সাভার, গাজীপুর বা কেরানীগঞ্জে জমি সস্তা, তাই একই আকারের ফ্ল্যাট সেখানে কম দামে করা যায়। তবে দাম কমলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। ক্রেতাকে দেখতে হবে, ফ্ল্যাট থেকে কর্মস্থলে যেতে কত সময় লাগে, রাস্তা কেমন, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ আছে কি না, আর স্কুল-বাজার-হাসপাতাল কত দূরে।
কেরানীগঞ্জ ঢাকার সবচেয়ে কাছে, বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে। গাজীপুরে কারখানা অনেক, তাই সেখানে ভাড়ার চাহিদা আছে। সাভারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে। প্রতিটি জায়গার সুবিধা আলাদা, অসুবিধাও আলাদা।
বুকিংয়ের আগে যা যাচাই করবেন
প্রথমে দেখবেন প্রকল্পের অনুমোদন। রাজউকের অনুমোদন আছে কি না, জমির কাগজ ঠিক আছে কি না, খতিয়ান ও দলিল মিলছে কি না, তা যাচাই করুন। দ্বিতীয়ত, কোম্পানির আগের প্রকল্প দেখুন। তারা সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছে কি না, তা জানা জরুরি। তৃতীয়ত, চুক্তিপত্র পড়ুন। কিস্তির সময়সূচি, হস্তান্তরের তারিখ, দেরি হলে কী হবে, তা লিখিত থাকতে হবে।
চতুর্থ বিষয় হলো লুকানো খরচ। ফ্ল্যাটের দামের বাইরে রেজিস্ট্রেশন খরচ আছে। স্ট্যাম্প ডিউটি দেড় শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি এক শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর সিটি করপোরেশনের ভেতরে দুই শতাংশ ও বাইরে তিন শতাংশ, নতুন ফ্ল্যাটে ভ্যাট ১,৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত দুই শতাংশ, এর বেশি হলে সাড়ে চার শতাংশ, আর মিউটেশন ফি এক হাজার ১৭০ টাকা। এই হিসাব মাথায় রেখে বাজেট করুন।
যাতায়াত আর জীবনযাত্রার হিসাব
ঢাকার বাইরে ফ্ল্যাট কিনলে মাসে যাতায়াত খরচ বাড়ে। সাভার থেকে মতিঝিল বা গাজীপুর থেকে গুলশান, প্রতিদিনের যাতায়াতে সময় ও টাকা দুটোই যায়। অনেকে সপ্তাহে কয়েক দিন ঢাকায় থেকে বাকি দিন নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন। কেনার আগে এক সপ্তাহ যাতায়াত করে দেখুন। সকালে বেরিয়ে কখন পৌঁছান, সন্ধ্যায় ফিরতে কত সময় লাগে, তা নিজে মেপে নিন।
রেহাব-রাজউক আলোচনা কী বলছে
গত ৫ নভেম্বর রেহাবের একটি প্রতিনিধিদল রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছে। প্রতিনিধিদল ড্যাপ সংশোধন, বেশি উঁচু ভবন ও পরিকল্পিত নির্মাণ এবং ঢাকার বাইরে ঋণসুবিধার দাবি জানিয়েছে। চেয়ারম্যান এ বিষয়ে একটি বিশেষ সভার কথা মেনে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই আলোচনা থেকে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা সাশ্রয়ী ফ্ল্যাটের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার বাইরের ফ্ল্যাট অনেক পরিবারের জন্য প্রথম নিজের বাড়ির সুযোগ হতে পারে। তবে সুযোগটি কাজে লাগবে তখনই, যখন কাগজ, কোম্পানি আর যাতায়াত, তিনটি যাচাই ঠিক থাকবে। দাম কম দেখে তাড়াহুড়ো করে বুকিং নয়, ধীরে দেখে সিদ্ধান্ত নিন।




