ঢাকার ছোট ফ্ল্যাটের সবচেয়ে বড় অভিযোগ একটাই। ঘরে আলো আসে না। বাতাস চলাচল করে না। অথচ একই আকারের দুটি ফ্ল্যাটে ঢুকলে দেখা যায়, একটিতে আলোয় ভরে আছে, আরেকটি দিনের বেলাতেও অন্ধকার। পার্থক্য জায়গার নয়, সাজানোর। জানালার সামনে কী আছে, দেয়ালের রঙ কী, আর বারান্দাটা কী কাজে লাগছে, এই তিনটি বিষয়ই ঘরের আলো আর বাতাস ঠিক করে দেয়।

জানালা আগে খালি করুন

ছোট ফ্ল্যাটে জানালার সামনে প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকে আলমারি, নয়তো ফ্রিজ। ঘর সাজাতে গিয়ে আমরা জানালাটাকেই ঢেকে ফেলি। অথচ জানালা এই ঘরের সবচেয়ে দামি জিনিস। জানালার সামনে ভারী আসবাব না রেখে সেখানে একটা ছোট টেবিল বা কয়েকটি গাছ রাখলে আলো ঘরে ঢুকতে পারে। পর্দার ক্ষেত্রেও একই কথা। মোটা, গাঢ় রঙের পর্দা দিনের আলো আটকে দেয়। হালকা রঙের পাতলা পর্দা আলো ছড়িয়ে দেয়, আবার বাইরে থেকে ঘরের ভেতরটাও তেমন দেখা যায় না।

Estate News — Find your dream home

ঢাকার ফ্ল্যাটে জানালা খোলা রাখার আরেকটি সমস্যা ধুলো আর শব্দ। রাস্তার ধারে ফ্ল্যাট হলে সকালে আর বিকেলে জানালা খুলে বাতাস চলাচল করানোই ভালো। দুপুরের রোদ আর ধুলো এড়াতে তখন জানালা বন্ধ রাখা যায়। এই ছোট অভ্যাসে ঘরের বাতাস অনেকটাই বদলে যায়। জানালার গ্রিলের সামনে গাছ রাখলেও ধুলো কিছুটা কমে, আর চোখে সবুজ পড়ে।

রঙের হিসাব

ছোট ঘরে গাঢ় রঙ দেয়ালকে কাছে টানে। ঘর তখন আরও ছোট মনে হয়। সাদা, হালকা হলুদ বা হালকা সবুজ দেয়ালে আলো প্রতিফলিত হয়, ঘর বড় মনে হয়। পুরো ফ্ল্যাট একই রঙে রাঙানোর দরকার নেই। বসার ঘর আর শোবার ঘরে হালকা রঙ, আর একটি দেয়ালে একটু গাঢ় রঙ, এই ভারসাম্যেই ঘর ভালো দেখায়।

আসবাবের রঙও একই নিয়মে চলে। গাঢ় কাঠের বড় আলমারি ছোট ঘরে ভারী লাগে। হালকা রঙের কাঠ বা সাদা আসবাব আলো ধরে রাখে। আয়না ছোট ঘরের পুরোনো কৌশল। জানালার উল্টো দিকে একটি আয়না রাখলে আলো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, ঘরও বড় মনে হয়। তবে আয়না যেন বিছানার মুখোমুখি না হয়, সেটা অনেক পরিবারই পছন্দ করে না।

আসবাব রাখার নিয়ম

Advertise on Estate News

ছোট ঘরে আসবাব কম রাখাই ভালো। বড় আলমারি, ভারী সোফা আর অপ্রয়োজনীয় টেবিল ঘরের আলো আর চলাচলের জায়গা দুটোই কেড়ে নেয়। দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে আসবাব রাখলে মাঝখানের জায়গা খালি থাকে, আর ঘর বড় মনে হয়। বিছানার নিচে আর আলমারির উপরে জিনিস রাখার ব্যবস্থা করলে ছোট ছোট জিনিস ছড়িয়ে থাকে না। একটি ঘরে শুধু সেই আসবাবই থাকা উচিত, যা প্রতিদিন কাজে লাগে। বাকিটা সরিয়ে রাখলে ঘরে আলো যেমন বাড়ে, মনও তেমন হালকা লাগে।

বারান্দা: ঘরের বাড়তি ঘর

ঢাকার ছোট ফ্ল্যাটে বারান্দা প্রায়ই হয় গুদামঘর। পুরোনো জিনিস, ভাঙা চেয়ার, খালি বালতি, সব জমা হয় সেখানে। অথচ বারান্দা ঘরের সবচেয়ে কাজের জায়গা। সকালে সেখানে বসে চা খাওয়া যায়, বিকেলে বাচ্চারা খেলতে পারে, আর গাছ রাখলে পুরো ফ্ল্যাটের বাতাস বদলে যায়। বারান্দায় দু-তিনটি টব রাখলেই হয়। তুলসী, পুদিনা, মানি প্ল্যান্ট, এসব গাছ ছায়াতেও বাঁচে।

বারান্দায় কাপড় শুকানো বন্ধ করা যায় না, তবে কাপড় শুকানোর জায়গা একপাশে সরিয়ে নিলে বাকি জায়গাটা বসার মতো থাকে। একটি ছোট মোড়া আর একটি টেবিল রাখলেই বারান্দা হয়ে ওঠে ঘরের বাড়তি ঘর। অনেক পরিবার বারান্দায় বসে সন্ধ্যায় গল্প করে, আর সেই সময়টুকুই দিনের সবচেয়ে শান্ত সময় হয়ে ওঠে।

আলো আর বাতাসের ছোট অভ্যাস

সিলিং ফ্যানের দিকটাও খেয়াল রাখা ভালো। ফ্যান শুধু ঠান্ডা করে না, ঘরের বাতাস ঘুরিয়ে দেয়। জানালা আর দরজা দুটোই একটু খোলা রেখে ফ্যান চালালে বাতাস চলাচল করে। আর রাতে ঘুমানোর আগে ঘরটা একবার হাওয়া দিয়ে নিলে সকালটা অনেক হালকা লাগে।

ছোট ফ্ল্যাটের আলো আর বাতাসের সমস্যা টাকা দিয়ে সমাধান হয় না। নতুন জানালা বা বড় ফ্ল্যাটের দরকার নেই। দরকার শুধু চোখ খুলে দেখা, ঘরের কোন জিনিসটা আলো আটকাচ্ছে। জানালা খালি করুন, দেয়াল হালকা রাখুন, বারান্দাটাকে বাঁচিয়ে রাখুন। এই তিনটি কাজেই ঢাকার ছোট ফ্ল্যাটে সকালের রোদ ফিরে আসে, আর ঘরটা হয়ে ওঠে থাকার মতো জায়গা।