ঢাকার ছোট ফ্ল্যাটে অতিথি আসা মানেই চিন্তা নয়। চিন্তা শুরু হয় যখন মনে হয় ঘরটা ছোট, বসার জায়গা কম, আর রান্নাঘরে বড় আয়োজন করার সময় নেই। আসলে অতিথি আপ্যায়নের জন্য বড় ঘর লাগে না। লাগে একটু গোছানো বসার ঘর, হালকা খাবার, আর আগে থেকে ভাবা একটা পরিকল্পনা।

বসার ঘরটাই প্রথম কাজ। অতিথি আসার আগে ঘরের মাঝখানটা খালি করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্য ঘরে সরিয়ে নিন। সোফা আর চেয়ার এমনভাবে সাজান যাতে সবাই মুখোমুখি বসতে পারে। জানালার পাশে একটা ছোট টেবিল রাখলে চায়ের কাপ রাখতে সুবিধা হয়। ফ্ল্যাট ছোট হলে মেঝেতে একটা পরিষ্কার মাদুর বা কার্পেট পেতে দিন। অতিথি বসতে পারলে আরামে, এটাই আসল কথা।

খাবার: হালকা কিন্তু যত্নের

Estate News — Find your dream home

খাবারের ক্ষেত্রে বড় আয়োজনের দরকার নেই। চা, বিস্কুট, আর একটু মিষ্টি দিয়েই শুরু করা যায়। সঙ্গে থাকতে পারে ফল বা হালকা নাশতা। ঢাকার বাজারে মিষ্টি আর নাশতা কিনতে পাওয়া যায় সহজেই। নিজে বানাতে চাইলে আগের দিন কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। অতিথি আসার আধা ঘণ্টা আগে চা বানানো শুরু করলেই যথেষ্ট। খাবারের পরিমাণের চেয়ে পরিবেশনের যত্নটা বেশি মনে থাকে। পরিষ্কার কাপ, একটা ট্রে, আর একটু হাসিমুখ—এই তিনটাই আপ্যায়নের আসল উপকরণ।

বসার ব্যবস্থা: আগে থেকে ভাবুন

Advertise on Estate News

কতজন অতিথি আসবে, তা আগে থেকে জেনে নিন। সেই অনুযায়ী চেয়ার আর মাদুরের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে প্রতিবেশীর কাছ থেকে দুটি চেয়ার ধার নেওয়া যায়। বাচ্চাদের জন্য মেঝেতে বসার ব্যবস্থা রাখুন। বয়স্ক অতিথি থাকলে তাকে সোফায় বসতে দিন। বসার ব্যবস্থা আগে থেকে ঠিক থাকলে অতিথি আসার পর দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না।

ছোট ছোট প্রস্তুতি, বড় আরাম

অতিথি আসার আগে বাথরুমটা পরিষ্কার করে রাখুন। একটা পরিষ্কার তোয়ালে আর সাবান রাখুন। ঘরে হালকা সুগন্ধির ব্যবস্থা করলে ভালো লাগে। জানালা খুলে দিন, যাতে আলো আর বাতাস আসে। টেবিলে একটা ফুলদানি বা ছোট গাছ রাখলে ঘরটা প্রাণবন্ত দেখায়।

অতিথি আপ্যায়ন আসলে একটা মনোভাব। ঘর ছোট হলেও আন্তরিকতা ছোট হয় না। অতিথি যখন দেখেন আপনি তার জন্য ভেবেছেন, তখন ফ্ল্যাটের আকারটা আর মনে থাকে না। মনে থাকে শুধু আপ্যায়নের উষ্ণতাটা।