বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১২.১৮ শতাংশ বেশি। জুলাই থেকে অক্টোবর, এই চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১,১৪৬.৫ কোটি ডলার, আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি।
এই সংখ্যাগুলোর গুরুত্ব শুধু অঙ্কে নয়, আচরণে। প্রবাসী পরিবারে টাকা এলে প্রথমে চলে সংসার খরচ, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা। তারপর, যদি কয়েক মাস ধরে টাকা নিয়মিত আসে, পরিবার ভাবতে শুরু করে সঞ্চয় আর বাড়ির কথা। ঢাকায় বা চট্টগ্রামে একটা ফ্ল্যাট, গ্রামে একটা পাকা বাড়ি, অথবা বাবা-মায়ের জন্য শহরে একটা ছোট বাসা: এই পরিকল্পনাগুলো এক মাসের টাকায় হয় না। ধারাবাহিকতায় হয়।
পরিকল্পনার বদল
আগে অনেক পরিবার অপেক্ষা করত একসঙ্গে বড় অঙ্ক জমার। এখন অনেকেই ধাপে ধাপে এগোচ্ছেন। প্রথমে জমি বা ফ্ল্যাটের কাগজ যাচাই, তারপর ব্যাংক ঋণের শর্ত জানা, তারপর নিজের জমানো টাকার হিসাব মেলানো। প্রবাস থেকে টাকা পাঠানো মানুষটি আর দেশে থাকা পরিবার একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ভিডিও কলে ফ্ল্যাট দেখছে, কাগজের ছবি পাঠাচ্ছে। এই ধাপগুলো বাড়ি কেনাকে তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত থেকে পরিকল্পিত কাজে বদলে দিচ্ছে।
তবে সাবধানতাও বাড়ছে। ঋণ নেওয়ার আগে পরিবার এখন জানতে চায় মাসিক কিস্তি কত হবে, সুদের হার বদলালে কী হবে, আর প্রবাসীর কাজে ছেদ পড়লে সংসার চলবে কি না। এই প্রশ্নগুলো অস্বস্তিকর, কিন্তু জরুরি। একটা ভালো মাসের রেমিট্যান্স দিয়ে কিস্তির হিসাব মেলালে চলে না। হিসাব মেলাতে হয় খারাপ মাস ধরেও।
যাচাই ছাড়া নয়
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখনো কাগজে। জমির মালিকানা, মিউটেশন, অনুমোদন আর ডেভেলপারের হস্তান্তর রেকর্ড যাচাই না করে বুকিং দেওয়া উচিত নয়, প্রবাসী ক্রেতাদের ক্ষেত্রে তো নয়ই। পরিবারের কেউ সরাসরি দেখে, অথবা বিশ্বস্ত আইনজীবীর মাধ্যমে কাগজ যাচাই করে, তারপরই টাকা দেওয়ার ধাপে যাওয়া উচিত। দূর থেকে কেনা মানে যাচাই ছাড়া কেনা নয়।
রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা পরিবারকে সময় দিচ্ছে। সেই সময়টা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ: সঞ্চয় আলাদা রাখা, ঋণের শর্ত লিখিতভাবে জানা, কাগজ যাচাই করা। বাড়ি কেনা কোনো দৌড় নয়। এটা এমন এক সিদ্ধান্ত, যার সঙ্গে পরিবারের আগামী দশ-পনেরো বছর জড়িয়ে থাকে। ধারাবাহিক রেমিট্যান্স সেই সিদ্ধান্তকে তাড়াহুড়ো থেকে সরিয়ে ধীর, স্থির পরিকল্পনার দিকে নিচ্ছে। এটাই এই মাসের হিসাবের আসল খবর। এই লেখা তথ্যমূলক, আর্থিক পরামর্শ নয়।




