মিরসরাইয়ে এখন প্রতিদিনই নতুন কিছু ঘটছে। চট্টগ্রাম জেলার এই উপজেলায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে গড়ে উঠছে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পশহরগুলোর একটি। কারখানা চালু হচ্ছে, শ্রমিক নিয়োগ হচ্ছে, আর তার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের বাসার চাহিদাও বাড়ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এই শিল্পশহর এখন শুধু শিল্পের খবর নয়, আবাসনেরও খবর।
সবচেয়ে নতুন খবরটি এসেছে এসবিএস জিপার থেকে। প্রতিষ্ঠানটি ২০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মিরসরাইয়ে উৎপাদন শুরু করেছে। ১৫.৫১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা কারখানায় এখন ১৪০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছালে এখানে ২,০০০ জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। জিপার তৈরির এই কারখানা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের পোশাক কারখানাগুলো এতদিন জিপারের বড় অংশ আমদানি করত।
একের পর এক বিনিয়োগ
এসবিএস একা নয়। কেপিএসটি নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ৭.০১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি করেছে, যেখানে প্রায় ২০০ জনের চাকরি হবে। গত ১৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি জমির লিজ চুক্তি সই করেছে। রিলায়েন্স ক্যান নামের প্রতিষ্ঠান ১৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে অপটিমাপ্লাস্ট নামের একটি কারখানা গড়ছে, যেখানে প্লাস্টিক পণ্য তৈরি হবে। এই কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে, উৎপাদন শুরু হবে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে, আর প্রায় ৪০০ জনের চাকরি হবে। এমইপি হাই-টেক নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কারখানা গড়ছে, যেখানে প্রায় ২,০০০ জনের কর্মসংস্থান হবে বলে জানা গেছে।
এই বিনিয়োগগুলো একসঙ্গে দেখলে চিত্রটা পরিষ্কার। মিরসরাই এখন আর শুধু একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়। এটি একটি শিল্পশহর হয়ে উঠছে, যেখানে কারখানা, শ্রমিক আবাসন, দোকানপাট আর পরিবহনের চাহিদা একসঙ্গে বাড়ছে।
সংখ্যায় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল
বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ (ইজেড-১) এর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৭৯টি প্লটের মধ্যে ২৬৩টি ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি কারখানা উৎপাদনে আছে, ১৭টি নির্মাণাধীন। মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৯৮.৮৩ মিলিয়ন ডলার, রপ্তানি হয়েছে ৬৮.২৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর কর্মসংস্থান হয়েছে ৪,৪২৮ জনের। এই সংখ্যাগুলো বলছে, মিরসরাইয়ের গল্প এখন আর ভবিষ্যতের নয়, বর্তমানের।
কারখানার শ্রমিকদের বাসার প্রশ্নটিও এখন সামনে আসছে। কারখানায় কাজ করা মানুষদের থাকার জায়গা দরকার। কেউ কেউ কাছাকাছি ভাড়া বাসা নিচ্ছেন, কেউ কেউ জমি কিনে বাড়ি করার কথা ভাবছেন। শিল্পশহরের আশেপাশে বাসার চাহিদা বাড়লে ভাড়া আর জমির দামের ওপর চাপ পড়ে। এই চাপ কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করছে কারখানাগুলো কত দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছায় তার ওপর।
পরিবারের জন্য কী মানে রাখে
মিরসরাইয়ের এই পরিবর্তন শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়। যারা চট্টগ্রামে বা আশেপাশে থাকেন, তাদের জন্য এটি একটি নতুন সুযোগের খবর। কারখানায় চাকরি মানে পরিবারের আয় বাড়া। আর চাকরির জায়গার কাছে বাসা মানে যাতায়াতের সময় আর খরচ কমা। অনেক পরিবার এখন মিরসরাইয়ের আশেপাশে বাসা খুঁজছে, কারণ এখানে কাজের সুযোগ বাড়ছে।
তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই করা জরুরি। কোনো কারখানার পাশে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার আগে জমির কাগজপত্র, মালিকানা আর অনুমোদন ঠিকঠাক দেখে নিতে হবে। কেনার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নেওয়া আর কাগজপত্র ঠিকঠাক দেখে নেওয়াই নিরাপদ।




