ঢাকার অনেক ফ্ল্যাটে বাচ্চার পড়ার জায়গা বলতে ডাইনিং টেবিলের এক কোণা। সকালে সেখানে নাশতা, দুপুরে বই, সন্ধ্যায় আবার থালাবাসন। বাচ্চা বই খুলতে না খুলতেই জায়গাটা বদলে যায়। পড়ার জন্য আলাদা কোণা না থাকলে মন বসে না, এটা অস্বাভাবিক নয়।

প্রথম কাজ হলো জায়গা বাছা। জানালার পাশ সবচেয়ে ভালো, কারণ দিনের আলো চোখের জন্য আরামদায়ক। জানালা না থাকলে ঘরের যে কোণায় আলো বেশি পড়ে, সেটাই বেছে নিন। টেবিলের মুখ যেন আলোর দিকে থাকে, পেছন থেকে আলো এলে বইয়ের ওপর ছায়া পড়ে। সন্ধ্যার জন্য একটা টেবিল ল্যাম্প রাখুন, যাতে আলো সরাসরি বইয়ের ওপর পড়ে, চোখে নয়।

টেবিল আর চেয়ারের উচ্চতা

Estate News — Find your dream home

টেবিলের উচ্চতা বাচ্চার উচ্চতার সঙ্গে মেলাতে হবে। বসার পর পা মেঝেতে ঠেকবে, কনুই টেবিলের সমান থাকবে, কাঁধ ঝুঁকে যাবে না। বেশি উঁচু টেবিলে বাচ্চা কুঁজো হয়ে বসে, বেশি নিচু টেবিলে ঘাড় ব্যথা করে। ছোট বাচ্চার জন্য পায়ের নিচে একটা ছোট টুল রাখা যায়। চেয়ার শক্ত আর সোজা পিঠের হলে ভালো, নরম সোফায় বসে বেশিক্ষণ পড়া যায় না।

প্লাস্টিকের চেয়ার অনেক বাড়িতেই থাকে। তাতে সমস্যা নেই, যদি চেয়ার না দোলে আর বাচ্চা সোজা হয়ে বসতে পারে। টেবিলের ওপর শুধু সেই দিনের বই, খাতা আর কলম রাখুন। বাকি বই পাশের তাকে সাজিয়ে রাখলে টেবিল ফাঁকা থাকে, মনও ফাঁকা থাকে।

গোছানো আর নিরাপত্তা

Estate News free property calculators

ছোট জায়গায় গোছানোই আসল কাজ। দেয়ালে একটা ছোট তাক, টেবিলের পাশে একটা বাক্স আর একটা পানির বোতল রাখার জায়গা থাকলেই অনেকটা হয়ে যায়। রঙিন পেনসিল, রাবার আর স্কেলের জন্য ছোট একটা পাত্র রাখুন, যাতে সেগুলো বিছানায় বা মেঝেতে ছড়িয়ে না থাকে। প্রতিদিন পড়া শেষে বই গুছিয়ে রাখার অভ্যাসটাই কোণাটাকে টিকিয়ে রাখে।

নিরাপত্তার দিকটাও দেখতে হবে। বৈদ্যুতিক তার যেন টেবিলের নিচে ঝুলে না থাকে। ভারী তাক যেন দেয়ালে শক্ত করে লাগানো থাকে। জানালার গ্রিল ঠিক আছে কি না, তা দেখে নিন। ছোট বাচ্চা থাকলে কাঁচি, ছুরি বা ভারী জিনিস টেবিলে রাখবেন না। টেবিল ল্যাম্পের তার এমনভাবে রাখুন যাতে পায়ে না জড়ায়।

বাজেটের ক্রম

সবকিছু একসঙ্গে কেনার দরকার নেই। প্রথমে টেবিল আর চেয়ার ঠিক করুন, কারণ এ দুটো ছাড়া পড়ার কোণা হয় না। তারপর আলোর ব্যবস্থা করুন। এরপর তাক আর বাক্স। সবশেষে সাজসজ্জা, যেমন দেয়ালে বাচ্চার আঁকা ছবি বা একটা ছোট গাছ। এই ক্রম মানলে খরচ ছড়িয়ে যায়, আর কোনটা সত্যিই দরকার তা বোঝা যায়।

পুরনো টেবিল থাকলে তা-ই ব্যবহার করুন। শুধু উচ্চতা মিলিয়ে দেখুন আর টেবিলের ওপরটা পরিষ্কার রাখুন। বাচ্চাকে কোণাটা নিজের করে নিতে দিন: নিজের বই সাজাক, নিজের পছন্দের কলম রাখুক। নিজের জায়গা মনে হলে বাচ্চা সেখানে বসতে চাইবে। আর সেটাই আসল উদ্দেশ্য।