ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে অনেক পরিবারের হাতেই প্রথম যে টাকাটা আসে, সেটা সঞ্চয়পত্র। বছরের পর বছর ধরে জমানো এই টাকা একসঙ্গে পাওয়া যায়, তাই ডাউন পেমেন্টের ঘাটতি মেটাতে এটাই সবচেয়ে সহজ মনে হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষের আগে ভাঙলে হিসাবটা বদলে যায়। যে সুদ আশা করে রাখা হয়েছিল, তার পুরোটা আর মেলে না।

সঞ্চয়পত্রের নিয়ম স্কিমভেদে আলাদা। কোনো স্কিমে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভাঙালে আগের দেওয়া সুদের একটা অংশ ফেরত নেওয়া হয়, কোনোটায় হার কমিয়ে নতুন করে হিসাব করা হয়। তাই ভাঙার আগে প্রথম কাজ হলো নিজের সার্টিফিকেটের ধরন, কেনার তারিখ আর মেয়াদ কাগজে মিলিয়ে দেখা। ব্যাংক বা ডাকঘরের শাখায় গিয়ে লিখিতভাবে জানতে চান, ভাঙালে ঠিক কত টাকা হাতে আসবে। মৌখিক আশ্বাসে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

মেয়াদ কতটা বাকি, সেটাই আসল প্রশ্ন

Estate News — Find your dream home

মেয়াদ শেষ হতে যদি আর কয়েক মাস বাকি থাকে, তাহলে অপেক্ষা করার মূল্য আলাদা করে হিসাব করুন। এই কয়েক মাসে পাওয়া পূর্ণ সুদ আর এখন ভাঙলে যে ক্ষতি হবে, দুটো অঙ্ক পাশাপাশি রাখুন। অনেক সময় দেখা যায়, ক্ষতির পরিমাণ ডাউন পেমেন্টের জন্য নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ধারের সুদের চেয়ে বেশি। আবার মেয়াদ শেষ হতে বছরখানেক বাকি থাকলে চিত্রটা অন্যরকম হতে পারে। সেখানে অপেক্ষা মানে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যাওয়া বা পছন্দের ইউনিট হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি। দুই দিকের ঝুঁকিই লিখে হিসাব করা দরকার।

পুরো টাকা একসঙ্গে ভাঙবেন না

একটা ভুল প্রায়ই হয়। দরকার হয়তো ডাউন পেমেন্টের একটা অংশের, কিন্তু ভাঙা হয় সব সার্টিফিকেট। এতে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা বলে কিছু থাকে না। পরিবারের হাতে থাকা সার্টিফিকেটগুলো আলাদা আলাদা করে দেখুন। কোনটা মেয়াদের কাছাকাছি, কোনটার সুদ ইতিমধ্যে বেশিরভাগ পাওয়া গেছে, কোনটা ভাঙলে ক্ষতি কম। সবচেয়ে কম ক্ষতিরটা আগে ভাঙুন। বাকিগুলো জরুরি তহবিল হিসেবে রেখে দিন, কারণ ফ্ল্যাট কেনার পর রেজিস্ট্রেশন, মেরামত আর সংসার চালানোর খরচও আসে।

Advertise on Estate News

ঋণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন

সঞ্চয়পত্র ভাঙা মানেই ঋণ এড়ানো নয়, আবার ঋণ নেওয়া মানেই ক্ষতি নয়। গৃহঋণের কিস্তি, সুদের হার, মেয়াদ আর প্রসেসিং খরচ একসঙ্গে হিসাব করুন। তারপর দেখুন, সঞ্চয়পত্রের ক্ষতি আর ঋণের মোট খরচের মধ্যে কোনটা কম। কোনো কোনো পরিবার আংশিক ভাঙে, আংশিক ঋণ নেয়। এতে মাসিক কিস্তি সহনীয় থাকে, আবার সব সঞ্চয়ও শেষ হয় না। ব্যাংকের ঋণ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার সময় কিস্তির বাইরে লুকানো খরচ আছে কি না, তা স্পষ্ট করে জিজ্ঞেস করুন।

কাগজ আর করের দিকটা ভুলবেন না

সঞ্চয়পত্র ভাঙার টাকা যখন ফ্ল্যাটের পেমেন্টে যাবে, তখন লেনদেনের প্রমাণ রাখা জরুরি। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, এনক্যাশমেন্ট স্লিপ আর পেমেন্ট রসিদ এক ফাইলে গুছিয়ে রাখুন। করের বিষয়ে নিয়ম সময়ে সময়ে বদলায়, তাই নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম একজন কর উপদেষ্টা বা ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। এই লেখা সাধারণ তথ্য দিচ্ছে, কারও ব্যক্তিগত আর্থিক পরামর্শ হিসেবে নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আয়, চাকরির স্থিতি আর পরিবারের মাসিক খরচের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

ফ্ল্যাট কেনা জীবনের বড় সিদ্ধান্ত। সঞ্চয়পত্র সেই সিদ্ধান্তের একটা হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু তার দামটা আগে জানা থাকলে পরে আফসোস কম হয়।