ঢাকার ছোট ফ্ল্যাটে সবচেয়ে আগে ভরে যায় ওয়ার্ডরোব। শাড়ি, পাঞ্জাবি, শীতের কাঁথা, বাচ্চার জামা আর অতিথির বিছানা, সব এক জায়গায় ঠাসা। দরজা বন্ধ হয় না, জামা খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জায়গার অভাব নয়, ভেতরের সাজানোর অভাবই আসল সমস্যা। কিছু সিদ্ধান্ত বদলালে একই ওয়ার্ডরোবেই অনেকটা জায়গা বের হয়।
ওয়ার্ডরোবের ভেতরটা আগে ঠিক করুন
নতুন আলমারি কেনার আগে পুরোনোটার ভেতরটা দেখুন। ওয়ার্ডরোবের ওপরের তাকে শীতের লেপ আর কম ব্যবহৃত জিনিস রাখুন। মাঝের অংশে দৈনন্দিন জামা। নিচে ভারী জিনিস। হ্যাঙ্গারে শুধু সেসব জামা ঝোলান যা ভাঁজ করলে নষ্ট হয়: শাড়ি, পাঞ্জাবি, কোট। বাকি সব ভাঁজ করে তাকে রাখুন। ভাঁজ করা জামা দাঁড় করিয়ে রাখলে, বইয়ের মতো সারি দিয়ে, খুঁজে পাওয়া সহজ হয় আর জায়গাও কম লাগে।
ছোট ছোট বাক্স আর ডিভাইডার কাজে লাগান। মোজা, ওড়না, বেল্ট আলাদা বাক্সে রাখুন। স্বচ্ছ বাক্স ব্যবহার করলে খুলে দেখতে হয় না। মৌসুম বদলের সময় জামা বদলান। গরমের জামা আলাদা করে এয়ারটাইট বাক্সে তুলে রাখুন, শীতেরটা নামান। এই একটা অভ্যাসই ওয়ার্ডরোবের অর্ধেক চাপ কমায়। বর্ষায় কাপড়ে ছত্রাক ধরা ঠেকাতে বাক্সে শুকনো নিমপাতা বা বাজার থেকে কেনা আর্দ্রতা শোষক রাখতে পারেন।
দেয়াল আর খাটের তলা কাজে লাগান
ছোট ফ্ল্যাটে মেঝে কম, দেয়াল বেশি। দেয়ালে হুক লাগিয়ে ব্যাগ, ছাতা আর রান্নাঘরের জিনিস ঝোলান। ভাড়া ফ্ল্যাটে দেয়াল ফুটো করতে না চাইলে দরজার ওপরের হুক র্যাক বা আঠালো হুক ব্যবহার করুন। দরজার পেছনে জুতার র্যাক ঝোলালে প্রবেশপথের জুতার স্তূপ কমে। রান্নাঘরে দেয়ালের র্যাকে মসলা আর বাসন রাখলে কাউন্টার খালি থাকে।
খাটের তলা ঢাকার ফ্ল্যাটের সবচেয়ে অবহেলিত জায়গা। ড্রয়ারওয়ালা খাট বা স্টোরেজ বক্সওয়ালা খাটে অতিথির বিছানা, শীতের কাঁথা আর কম ব্যবহৃত জিনিস রাখুন। চাকাওয়ালা বাক্স ব্যবহার করলে পরিষ্কারের সময় সরানো সহজ। তবে খাটের তলায় কাগজপত্র বা দামি জিনিস রাখবেন না। বর্ষায় মেঝের আর্দ্রতা নিচ থেকে ওঠে।
একটা জিনিস, একাধিক কাজ
ছোট ফ্ল্যাটে প্রতিটি আসবাবের একাধিক কাজ থাকা উচিত। ভাঁজ করা যায় এমন টেবিল দেয়ালে লাগালে দিনে পড়ার টেবিল, রাতে খাবার টেবিল। সোফা-কাম-বেড অতিথি এলে বিছানা হয়। অটোম্যান বা বসার মোড়ার ভেতরে বই আর খেলনা রাখা যায়। বাচ্চার ঘরে দেয়ালের তাকে বই রাখুন, মেঝেতে খেলনার বাক্স। নতুন আসবাব কেনার আগে মাপ নিন। ঢাকার দোকানে সুন্দর দেখতে আসবাব ঘরে এনে দেখা যায় দরজা দিয়ে ঢোকে না, বা ঘরের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়।
সবশেষে একটা নিয়ম মেনে চলুন। নতুন কিছু ঘরে ঢোকালে পুরোনো একটা কিছু বের করে দিন। ছোট ফ্ল্যাটে জায়গা ধরে রাখার এটাই সবচেয়ে সস্তা আর কার্যকর উপায়। জায়গা বাড়ানো মানে ঘর বড় করা নয়। মানে প্রতিটি জিনিসের একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকা, যাতে খুঁজতে সময় না যায় আর ঘরটা শ্বাস নিতে পারে।




