প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন আগের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। জুলাই থেকে অক্টোবর, অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে মোট এসেছে এক হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। নভেম্বরের প্রথম চার দিনেই এসেছে ৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

এই টাকার বড় অংশ যায় জমি আর ফ্ল্যাটে। প্রবাসে থাকা মানুষের কাছে নিজের দেশে এক টুকরো জমি বা একটি ফ্ল্যাট শুধু বিনিয়োগ নয়, এটা নিরাপত্তা। তবে জমি, ফ্ল্যাট আর সঞ্চয়পত্র, তিনটির চরিত্র আলাদা। একটিকে আরেকটির মতো করে দেখলে সিদ্ধান্ত ভুল হয়।

জমি: ধৈর্যের বিনিয়োগ

Estate News — Find your dream home

জমির দাম সাধারণত সময়ের সঙ্গে বাড়ে, বিশেষ করে যেখানে রাস্তা, স্কুল আর বাজার গড়ে উঠছে। কিন্তু জমি থেকে নিয়মিত আয় আসে না। বিক্রি করতে সময় লাগে, ক্রেতা খুঁজতে হয়, দাম নিয়ে দর-কষাকষি হয়। জমি কেনার আগে দলিল, খতিয়ান, মিউটেশন আর দখল, চারটি যাচাই করা জরুরি। কাগজে গরমিল থাকলে জমি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। প্রবাসে থেকে এসব যাচাই করা কঠিন, তাই বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে সরেজমিন দেখানো উচিত।

ফ্ল্যাট: থাকা আর ভাড়া, দুটোই

ফ্ল্যাট কেনার সুবিধা হলো, এতে থাকা যায়, আবার ভাড়াও দেওয়া যায়। ঢাকায় একই ধরনের ফ্ল্যাটের ভাড়ায় বার্ষিক আয় মোটামুটি আড়াই থেকে সাড়ে তিন শতাংশের মধ্যে থাকে বলে এস্টেট নিউজের নিজস্ব হিসাবে দেখা গেছে। তবে ফ্ল্যাটের সঙ্গে সার্ভিস চার্জ, রক্ষণাবেক্ষণ আর খালি থাকার মাসের খরচ আছে। ভাড়াটে খুঁজতে হয়, ভবন কমিটির সঙ্গে চলতে হয়। যাঁরা দেশে ফিরে থাকবেন, তাঁদের জন্য ফ্ল্যাট ভালো। যাঁরা শুধু বিনিয়োগ চান, তাঁদের জন্য ভাড়া পরিচালনার ব্যবস্থা আগেই ভাবতে হবে।

সঞ্চয়পত্র: নগদ আর নিশ্চয়তা

Advertise on Estate News

সঞ্চয়পত্রের সুবিধা হলো নগদ টাকা। প্রয়োজনে ভাঙানো যায়, নিয়মিত মুনাফা আসে, আর ঝুঁকি কম। অসুবিধা হলো, এর আয় সাধারণত জমি বা ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। তবে জরুরি সময়ের টাকা সঞ্চয়পত্রে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সব টাকা এক জায়গায় না রেখে ভাগ করে রাখলে ঝুঁকি কমে।

সৌদি আরব থেকে আসছে সবচেয়ে বেশি

প্রবাসী আয়ের উৎসের দিকেও তাকানো দরকার। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৬৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। এই টাকা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও শক্তি জোগাচ্ছে। ৪ নভেম্বর রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৬৩৮ কোটি ডলার।

প্রবাসী পরিবারের জন্য পরামর্শ সহজ। প্রথমে জরুরি সঞ্চয় আলাদা রাখুন। তারপর লক্ষ্য ঠিক করুন: ফিরে এসে থাকবেন, না ভাড়ার আয় চান, না শুধু টাকার নিরাপত্তা চান। লক্ষ্য ঠিক হলে মাধ্যম ঠিক করা সহজ হয়। জমি কিনলে কাগজ যাচাই করুন, ফ্ল্যাট কিনলে ভাড়া আর খরচের হিসাব করুন, সঞ্চয়পত্র কিনলে মেয়াদ আর মুনাফার নিয়ম জেনে নিন।

টাকা পাঠানো কঠিন কাজ। সেই টাকা কোথায় যাবে, তা ঠিক করা তার চেয়ে কঠিন। তাড়াহুড়ো না করে, কাগজ দেখে, হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিন।

এটি সাধারণ তথ্য, আর্থিক পরামর্শ নয়।