ফ্ল্যাটের দাম দেখে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। সিদ্ধান্ত নিতে হয় কিস্তি দেখে। প্রতি মাসে কত টাকা যাবে, সংসারের খরচের পর হাতে কত থাকবে, আর আয় একটু কমলে কী হবে, এই তিন প্রশ্নের উত্তর না মিললে ঋণ বিপদে ফেলতে পারে।

ব্যাংক ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আয় যাচাই করে। বেতন, ব্যবসার আয়, অন্য ঋণ আছে কি না, ক্রেডিট ইতিহাস, সব দেখে তারা ঠিক করে কত ঋণ দেওয়া যাবে। সাধারণত ব্যাংক চায়, কিস্তি যেন আয়ের একটা নির্দিষ্ট অংশের বেশি না হয়। এই সীমা ব্যাংকভেদে আলাদা হয়। আবেদনকারী যতই চান, ব্যাংক তার সীমার বাইরে যাবে না।

নিরাপদ ভাগের হিসাব

Estate News — Find your dream home

অনেক পরিবার একটি সহজ নিয়ম মেনে চলে: সব ঋণের কিস্তি মিলিয়ে মাসিক আয়ের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের বেশি না যাওয়া। এটা কোনো ব্যাংকের বাঁধা নিয়ম নয়, এটা পরিবারের নিজের নিরাপত্তার হিসাব। ধরুন, পরিবারের মাসিক আয় এক লাখ টাকা। তাহলে কিস্তি ৩০ হাজার টাকার আশপাশে থাকলে সংসার চালানো সহজ হয়। ৫০ হাজার টাকা কিস্তি হলে বাজার, স্কুলের ফি, চিকিৎসা আর জরুরি খরচের জায়গা কমে যায়।

একটি কথা মনে রাখা দরকার। কিস্তি শুধু ঋণের টাকা নয়। ফ্ল্যাটের সার্ভিস চার্জ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের বিল, যাতায়াত খরচ, সব মিলিয়ে মাসিক খরচ হিসাব করতে হয়। ঋণের কিস্তি আর সংসারের খরচ একসঙ্গে আয়ের চেয়ে বেশি হলে সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়।

ব্যাংক যা যা দেখে

ব্যাংক প্রথমে দেখে আয়ের প্রমাণ। বেতনভুক্ত চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে বেতনের সনদ আর ব্যাংক বিবরণী চাওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্স, আয়কর রিটার্ন আর ব্যাংক লেনদেন দেখা হয়। দ্বিতীয়ত, দেখা হয় বয়স আর চাকরির মেয়াদ। তৃতীয়ত, দেখা হয় ফ্ল্যাটের কাগজ। ফ্ল্যাটের দলিল, রাজউকের অনুমোদন, মিউটেশন, সব ঠিক থাকলে ঋণ পাওয়া সহজ হয়।

Estate News free property calculators

অনেকে ভাবেন, ঋণ পেলেই কাজ শেষ। আসলে ঋণ পাওয়ার পরই আসল হিসাব শুরু হয়। সুদের হার বদলাতে পারে, কিস্তির অঙ্ক বদলাতে পারে। ঋণ নেওয়ার আগে ব্যাংকের শর্ত পড়ুন। সুদ স্থির না পরিবর্তনশীল, আগেভাগে শোধ করলে জরিমানা আছে কি না, দেরি হলে কী হবে, তা জেনে নিন।

হাতে রাখুন জরুরি টাকা

ঋণের কিস্তি শুরু হওয়ার আগে অন্তত ছয় মাসের খরচের সমান টাকা আলাদা রাখুন। চাকরি গেলে, অসুস্থতা এলে, বা আয় কমলে এই টাকাই কিস্তি চালাবে। এই সঞ্চয় না থাকলে এক মাসের ধাক্কায় ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কিস্তি কমাতে মেয়াদ বাড়ানো যায়, কিন্তু তাতে মোট সুদ বাড়ে। মেয়াদ কমালে কিস্তি বাড়ে, মোট সুদ কমে। নিজের আয়ের সঙ্গে মিলিয়ে মাঝামাঝি মেয়াদ বেছে নিন। বেশি মেয়াদে কম কিস্তি দেখে খুশি হওয়ার আগে মোট কত সুদ দিতে হবে, তা হিসাব করে নিন।

ফ্ল্যাট কেনা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত। কিস্তি এমন রাখুন, যাতে সংসার চলে, সঞ্চয় থাকে, আর ঘুম নষ্ট না হয়। এই হিসাব মিললে ঋণ বোঝা নয়, বাড়ির পথ হয়।

এটি সাধারণ তথ্য, আর্থিক পরামর্শ নয়।