সিলেট শহরে নতুন ভবন দেখলেই বোঝা যায়, এই শহরের আবাসনের গল্পটা অন্য শহরের চেয়ে আলাদা। এখানে ফ্ল্যাট কেনেন অনেকেই, যাঁদের পরিবারের একজন থাকেন বিদেশে। লন্ডন, আমেরিকা আর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সিলেটিরা বছরের পর বছর টাকা পাঠান, আর সেই টাকায় সিলেটে গড়ে ওঠে ফ্ল্যাট। দেশের অর্থনীতির হিসাবেও এই টাকার গুরুত্ব বড়। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১.৪৬৫ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী।
সিলেটে যাঁরা ফ্ল্যাট কিনতে আসেন, তাঁদের অনেকেরই প্রথম প্রশ্ন থাকে, জায়গাটা কেমন। শাহজালাল উপশহর, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা আর শহরের আশপাশের এলাকায় নতুন ভবন উঠছে। কেউ চান শহরের ভেতরে ফ্ল্যাট, কেউ চান একটু খোলামেলা জায়গা। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের জন্য নিচতলা বা লিফটের সুবিধা, স্কুল আর বাজারের দূরত্ব, এসবই কেনার সিদ্ধান্তে কাজ করে।
কেনার আগে যা দেখবেন
প্রবাস থেকে ফ্ল্যাট কেনার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, নিজে না দেখে কেনা। অনেক পরিবার আত্মীয় বা পরিচিতজনের ওপর ভরসা করে টাকা পাঠান। এতে কাজ হয়, তবে যাচাই ছাড়া নয়। জমির খতিয়ান, দলিল আর নামজারির কাগজ নিজে দেখা বা বিশ্বস্ত কারো মাধ্যমে যাচাই করা দরকার। জমির মালিকানা পরিষ্কার কি না, জমিতে কোনো মামলা আছে কি না, এসব না জেনে টাকা দেওয়া ঠিক নয়।
ভবনের অনুমোদনও দেখে নিতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কি না, ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর লিখিতভাবে নেওয়া ভালো। যাঁরা তৈরি ফ্ল্যাট কিনছেন, তাঁরা ভবনটি নিজে ঘুরে দেখতে পারেন। লিফট, পানির ব্যবস্থা, গ্যাসের সংযোগ আর সিঁড়ির অবস্থা, সবই চোখে দেখার বিষয়।
প্রবাসী পরিবারের ভাবনা
প্রবাসী পরিবারের ফ্ল্যাট কেনার পেছনে শুধু বিনিয়োগের ভাবনা থাকে না। অনেকেই কেনেন বাবা-মায়ের জন্য, কেউ কেনেন দেশে ফিরে থাকার জন্য। তাই ফ্ল্যাটের আকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পরিবারের সুবিধা। বয়স্ক বাবা-মায়ের জন্য নিচতলার ফ্ল্যাট, বাচ্চাদের জন্য স্কুলের কাছাকাছি জায়গা, আর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের দূরত্ব, এসবই হিসাবের মধ্যে আসে।
দাম নিয়ে কথা বলার সময় একটা কথা মনে রাখা দরকার। ফ্ল্যাটের দাম শুধু বর্গফুটের হিসাবে হয় না। জায়গা, ভবনের মান, লিফট আর সার্ভিস চার্জ, সব মিলিয়ে মোট খরচের হিসাব করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের খরচও আলাদা। স্ট্যাম্প ডিউটি ১.৫ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ১ শতাংশ, আর নামজারির ফি ১,১৭০ টাকা, এই হিসাব কেনার আগেই জেনে নেওয়া ভালো।
সিলেটের আবাসন বাজার এখনো অনেকটাই পরিবারকেন্দ্রিক। বড় বড় বিজ্ঞাপন কম, পরিচিতজনের সুপারিশ বেশি। এই বাজারে সবচেয়ে ভালো কাজ করে ধৈর্য। তাড়াহুড়ো করে না কিনে, কাগজ যাচাই করে, ভবন দেখে আর মোট খরচের হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিলে প্রবাসী পরিবারের ফ্ল্যাট কেনা নিরাপদ হয়।
এই তথ্য সাধারণ জ্ঞানের জন্য, আর্থিক পরামর্শ নয়।


