ঢাকায় একটা ছোট ফ্ল্যাটের দাম এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে। সেই জায়গা থেকেই এসেছে রিহ্যাবের নতুন পরিকল্পনা। সংগঠনের নতুন সভাপতি আলী আফজাল ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক গত বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁদের প্রথম ঘোষণাগুলোর একটা হলো, সাভার, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ছোট ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। খবরটি ৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে।

দামটাই এখানে মূল কথা। ঢাকার ভেতরে এখন এই দামে ফ্ল্যাট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। জমির দাম এত বেশি যে ছোট ফ্ল্যাটের দামও অনেক ওপরে উঠে যায়। রিহ্যাব বলছে, বর্তমান অবস্থায় ঢাকার ভেতরে এই দামে ফ্ল্যাট করা সম্ভব নয়। ঢাকার বাইরে জমি সস্তা, সেখানে এই হিসাব মিলতে পারে।

তিনটি জায়গা বেছে নেওয়ার পেছনেও কারণ আছে। সাভারে আছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক আর শিল্প এলাকা। গাজীপুরে আছে কারখানা, শ্রমিক আর দ্রুত বাড়তে থাকা আবাসন বাজার। কেরানীগঞ্জ বুড়িগঙ্গার ওপারে ঢাকার পাশেই, যেখানে ঢাকায় জায়গা না পাওয়া পরিবার অনেকদিন ধরেই যাচ্ছে। এই তিন জায়গায় ফ্ল্যাট মানেই ঢাকার ফ্ল্যাটের চেয়ে কম দাম, কিন্তু যাতায়াতের হিসাবটা ক্রেতাকে নিজে মিলিয়ে নিতে হবে।

Estate News — Find your dream home

রাজউকের সঙ্গে বৈঠক

শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেনি রিহ্যাব। গত বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, আলী আফজালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছে বলে ডেইলি এশিয়ান এজ জানিয়েছে। বৈঠকে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা, ড্যাপ সংশোধন, পরিকল্পিত উঁচু ভবন, কৃষি, আবাসন, শিল্প ও বনায়নের জন্য আলাদা অঞ্চল এবং ঢাকার বাইরে ঋণ সুবিধার দাবি জানানো হয়।

ড্যাপ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পরিকল্পনাই ঠিক করে কোথায় কী তৈরি করা যাবে। ডেভেলপাররা বলছেন, বর্তমান পরিকল্পনায় পরিকল্পিত ও উঁচু ভবন নির্মাণে বাধা আছে, আর কৃষিজমি ও আবাসন একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। আলাদা অঞ্চল হলে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, আবাসন গড়ে উঠবে নির্ধারিত জায়গায়। রাজউক চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে একটি বিশেষ বর্ধিত সভার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এটি শুনানি, সিদ্ধান্ত নয়। ড্যাপ সংশোধন নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা চলছে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার একই সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে যাওয়া নতুন নেতৃত্বের অগ্রাধিকার বুঝিয়ে দেয়।

ক্রেতার জন্য হিসাবটা কেমন

৫০ লাখ টাকার ফ্ল্যাট আর ৯০ লাখ টাকার ফ্ল্যাটের পার্থক্য শুধু দামের নয়। এটি ঋণের কিস্তির পার্থক্য, ডাউন পেমেন্ট জমানোর সময়ের পার্থক্য। ছোট ঋণ মানে ছোট কিস্তি, কম চাপ। পরিবারের মাসিক আয়ের বড় অংশ বিশ বছর ধরে ঋণে আটকে থাকবে না।

Advertise on Estate News

তবে যাতায়াতের খরচও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। গাজীপুরের ফ্ল্যাট সস্তা, কিন্তু ঢাকায় প্রতিদিন যাতায়াতে কত সময় আর ভাড়া লাগবে, সেটা দেখতে হবে। কেরানীগঞ্জের ক্ষেত্রে সেতুর জটও হিসাবের অংশ। যেদিন যাতায়াত করবেন, সেই সময়ে গিয়ে দেখে আসাই ভালো। গ্যাস, পানি আর বর্ষায় রাস্তার অবস্থাও আগেই জেনে নেওয়া উচিত।

সময়ের প্রশ্নটাও আছে। রিহ্যাব দাম আর জায়গার কথা বলেছে, কিন্তু এখনো প্রকল্পের নাম, অবস্থান ও উদ্বোধনের তারিখ দেয়নি। সেসব ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিকল্পনাটি দিকনির্দেশনা, তালিকা নয়। নতুন নেতৃত্বের প্রথম সপ্তাহে সেটাই স্বাভাবিক। ক্রেতাদের চোখ থাকবে পরের ঘোষণাগুলোর দিকে।

সরেজমিনে যা দেখে নেবেন

প্রকল্প ঘোষণা হলে ক্রেতার কাজ শুরু হবে মাঠে। সকালে অফিস যাওয়ার সময় রাস্তায় কতটা জট থাকে, বাস কতক্ষণ পরপর আসে, বর্ষায় পানি জমে কি না, এসব নিজে দেখে নেওয়া দরকার। গ্যাসের লাইন আছে কি না, পানির চাপ কেমন, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা কী, সার্ভিস চার্জ কত, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখিতভাবে নেওয়া ভালো। বিক্রয় অফিসের কথায় ভরসা না করে পুরনো বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে এলাকার আসল চিত্র পাওয়া যায়। দলিল ও অনুমোদনের কাগজ দেখা ছাড়া কোনো টাকা দেওয়া উচিত নয়।

সামনের দিনগুলো

বাংলাদেশের আবাসন বাজারে মাঝারি আয়ের পরিবারের জন্য ছোট, তৈরি ফ্ল্যাটের অভাব বহুদিনের। ওপরে যারা কিনতে পারে, তাদের জন্য প্রকল্প আছে। নিচে যারা নিজের জমিতে বাড়ি বানায়, তাদের পথও আছে। মাঝখানের পরিবার, যারা স্পষ্ট মালিকানা আর চালু লিফটসহ একটা ছোট ফ্ল্যাট চায়, তাদের জন্য ঢাকার ভেতরে বিকল্প কম। রিহ্যাবের পরিকল্পনা সেই ফাঁকটাই পূরণ করতে চায়।

কৃষিজমি রক্ষার কথাটাও এর সঙ্গে জড়িত। ঢাকার বাইরে প্রতিটি নতুন প্রকল্প জমি নেয়। পরিকল্পিত শহর আর ছড়িয়ে পড়া প্লটের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয় ড্যাপ আর ঋণের সুবিধা। ঢাকার বাইরে ঋণ সুবিধা না থাকলে সস্তা ফ্ল্যাটও কেনা কঠিন হয়ে যায়।

আপাতত নতুন নেতৃত্ব তাদের লক্ষ্য জানিয়েছে। আসল পরীক্ষা হবে প্রকল্পে: নাম, দাম আর সেই পরিবারগুলো সত্যিই কিনতে পারছে কি না। ঘোষণাগুলো এলে এস্টেট নিউজ সেগুলো জানাবে।