ঢাকার অনেক ফ্ল্যাটে এখনো মূল দরজার নিরাপত্তা মানে একটা কোলাপসিবল গেট, একজন দারোয়ান আর ভারী তালা। এর মধ্যে স্মার্ট লক ঢুকছে ধীরে ধীরে। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের জুন মাসের একটি নির্দেশনায় ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য ওয়াইফাই ক্যামেরা, ভিডিও ডোরবেল আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট লকের কথা বলা হয়েছে। লক কেনার সময় বিজ্ঞাপনের কথা কম, নিজের দরজা আর বাসার অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারিতে চলা লকই ঢাকার জন্য নিরাপদ
বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ ফ্ল্যাটের স্মার্ট লক চলে চারটি এএ ব্যাটারিতে। বাড়ির বিদ্যুৎ চলে গেলেও এই লক চলে, কারণ এর সঙ্গে বাড়ির লাইনের কোনো সম্পর্ক নেই। কেনার সময় দেখে নিন ব্যাটারি শেষ হলে লক কী করে। ভালো লক ব্যাটারি কমে গেলে আগেই সতর্ক করে, আর জরুরি অবস্থায় পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে টাইপ-সি পোর্ট থেকে চালানো যায়। যান্ত্রিক চাবির ব্যবস্থা থাকা লক বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ফোন হারালে বা ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে চাবিই শেষ ভরসা।
এর উল্টো দিকে আছে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক লক, যাকে ম্যাগলক বলে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এই লক নিজে থেকে খুলে যায়, যাতে জরুরি অবস্থায় বের হওয়া যায়। অফিস বা বাণিজ্যিক ভবনের মূল ফটকে এটা মানানসই। কিন্তু নিজের ফ্ল্যাটের দরজায় বিদ্যুৎ গেলেই খুলে যাওয়া লক বসানো ঠিক হবে না।
দরজার মাপ না মিললে লক বসবেই না
ঢাকার ফ্ল্যাটের কাঠের দরজা সব এক মাপের নয়। বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া একটি পরিচিত মডেল ৩৫ থেকে ৬৫ মিলিমিটার পুরু দরজায় বসে। কেনার আগে নিজের দরজার পুরুত্ব মেপে নিন। পুরোনো ফ্ল্যাটে দরজার ফ্রেম বেঁকে থাকতে পারে, লকের জায়গায় কাঠ পাতলা হতে পারে। তখন লক বসাতে কাঠ কাটতে হয়। ভাড়া ফ্ল্যাট হলে বাড়িওয়ালার অনুমতি নিয়ে রাখুন, আর পুরোনো লকটা যত্ন করে রেখে দিন, যাতে ছাড়ার সময় আগের অবস্থা ফিরিয়ে দেওয়া যায়।
ইন্টারনেট ছাড়াও যেন দরজা খোলে
অনেক ক্রেতা ধরে নেন স্মার্ট লক মানেই ওয়াইফাই লাগবে। আসলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পিন আর কার্ড দিয়ে খোলা লক ইন্টারনেট ছাড়াই চলে। ইন্টারনেট লাগে শুধু দূর থেকে খোলা, অতিথির জন্য অস্থায়ী কোড পাঠানো আর খোলার ইতিহাস দেখার কাজে। লোডশেডিংয়ে রাউটার বন্ধ হলে ক্যামেরা আর ভিডিও ডোরবেল অন্ধ হয়ে যায়। ডেইলি স্টারের নির্দেশনায় রাউটারের জন্য ছোট ইউপিএস রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যার দাম ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে বলে উল্লেখ আছে। ক্যামেরা কিনলে দেখুন ভিডিও মেমোরি কার্ডে জমে কি না, নাকি শুধু ক্লাউডে যায়। মেমোরি কার্ড থাকলে ইন্টারনেট না থাকলেও রেকর্ড থেকে যায়।
দাম আর কেনার হিসাব
ঢাকার বাজারে বায়োমেট্রিক স্মার্ট লকের দাম ডেইলি স্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮,৫০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকার বেশি পর্যন্ত। একটি পরিচিত মডেলের দোকানদারি দাম ১১,৯৯৯ টাকা, আরেকটির ১৬,৫০০ টাকা বলে খুচরা তালিকায় দেখা গেছে। দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেখুন ওয়ারেন্টি কতদিনের, ঢাকায় সার্ভিস আছে কি না, আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ধুলো আর ঘামে ঠিকমতো কাজ করে কি না। অতিথি বা গৃহকর্মীর জন্য অস্থায়ী কোড দেওয়া যায় এমন লক ভাড়াটে আর যৌথ পরিবারের জন্য কাজে লাগে। কোড দেওয়ার সময় মেয়াদ বেঁধে দিন, আর কাজ শেষে কোড মুছে ফেলুন।
শেষ কথা সহজ। ব্যাটারিতে চলা, চাবির বিকল্প থাকা, নিজের দরজায় বসে এমন লক কিনুন। ইন্টারনেটকে সুবিধা হিসেবে রাখুন, ভরসা হিসেবে নয়।


