নভেম্বর এলে ঢাকার অনেক পরিবারের সামনে একটা চেনা কাজ আসে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, বাড়িওয়ালা নতুন ভাড়ার কথা বলছেন, আর পরিবার ভাবছে থাকবে না উঠে যাবে। তাড়াহুড়ো করে সই করার আগে একটা দিন সময় নিয়ে পুরোনো চুক্তিটা পড়ে নেওয়া উচিত। গত বছরে কী কী সমস্যা হয়েছে, সেটা মনে করলেই বোঝা যায় নতুন চুক্তিতে কী বদলাতে হবে।

ভাড়া আর সার্ভিস চার্জ আলাদা করে লেখা থাকতে হবে। অনেক ভবনে সার্ভিস চার্জের মধ্যে লিফট, জেনারেটর, পানির পাম্প, নিরাপত্তা আর পরিষ্কারের খরচ থাকে। কিন্তু বছরের মাঝখানে চার্জ বাড়বে কি না, জেনারেটরের তেলের খরচ কীভাবে ধরা হবে, তা অনেক চুক্তিতে পরিষ্কার থাকে না। নবায়নের সময় এই কথাগুলো লিখে নিন। গত বছরের কোনো বকেয়া থাকলে, সেটা কার দায়, তাও পরিষ্কার হওয়া উচিত। আগের ভাড়াটিয়ার বকেয়া নতুন ভাড়াটিয়ার ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়।

অগ্রিম আর মেরামত নিয়ে পরিষ্কার কথা

Estate News — Find your dream home

অগ্রিম টাকা নিয়ে ঝামেলা সবচেয়ে বেশি হয় ওঠার সময়। কত টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে, কবে ফেরত পাওয়া যাবে, কোন অবস্থায় ফ্ল্যাট ছাড়তে হবে, আর স্বাভাবিক ব্যবহারের দাগের জন্য টাকা কাটা যাবে কি না, তা চুক্তিতে লিখে রাখুন। মৌখিক আশ্বাসে ভরসা করবেন না। নবায়নের সময় অগ্রিমের অঙ্ক বদলালে নতুন অঙ্ক আর ফেরতের শর্ত দুটোই নতুন চুক্তিতে উঠতে হবে।

Advertise on Estate News

মেরামতের ভাগটাও লিখে নেওয়া ভালো। ছোটখাটো মেরামত সাধারণত ভাড়াটিয়া করে, বড় যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে বা ভবনের কাঠামোগত সমস্যা হলে বাড়িওয়ালার দায় থাকে। তবে সীমাটা কোথায়, তা চুক্তিতে না থাকলে ঝগড়া হয়। ফ্ল্যাটের বর্তমান অবস্থা লিখে, সম্ভব হলে ছবি তুলে আর কেয়ারটেকারের সামনে মিলিয়ে রাখুন। দরজা, জানালা, কল, সুইচ আর রঙের দাগের তালিকা থাকলে ওঠার সময় পুরোনো দাগ নিয়ে নতুন দাবি ওঠে না।

সই করার আগের শেষ পরীক্ষা

সই করার আগে মিটার রিডিং মিলিয়ে নিন। বিদ্যুৎ, গ্যাস আর পানির বিল কার নামে, কীভাবে পরিশোধ হবে, তা লিখে রাখুন। লিফট, জেনারেটর, পানি সরবরাহ, নিরাপত্তা আর গাড়ি রাখার জায়গা নিজে দেখে নিন। দিনে আর রাতে এলাকাটা কেমন, যাতায়াত কতক্ষণ লাগে, বাজার আর স্কুল কত দূরে, সেটাও ভেবে দেখুন। এক বছরের জন্য সই করছেন, তাই এক বছরের জীবনটাই মাথায় রাখুন।

নোটিশের মেয়াদটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকায় সাধারণত এক বা দুই মাসের লিখিত নোটিশের চল আছে, তবে চুক্তিতে যা লেখা থাকবে, সেটাই মানতে হবে। কত দিন আগে জানাতে হবে, জানানোর পদ্ধতি কী, আর মেয়াদের আগে উঠলে কী হবে, তা পরিষ্কার করে নিন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ভাড়া চুক্তি তিনশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা উচিত, আর দুই পক্ষের কাছেই স্বাক্ষরিত কপি থাকা উচিত। নতুন চুক্তি হাতে পাওয়ার পর এক কপি নিজের কাছে রাখুন, আর পুরোনো চুক্তিটাও ফেলে দেবেন না। ভাড়া নবায়ন তখন আর ভয়ের কাজ থাকে না, বরং পরের বছরের জন্য একটা পরিষ্কার বোঝাপড়া হয়ে যায়।