সিলেট শহরের সকালে এখন একটা চেনা দৃশ্য। জিন্দাবাজারের মোড়ে দোকান খুলছে, আম্বরখানার দিকে ছাত্রছাত্রীরা যাচ্ছে, আর শাহজালাল উপশহরের গলিতে নতুন ভবনের কাজ চলছে। এই শহরের বাসার বাজার অনেক দিন ধরেই আলাদা। এখানে শুধু স্থানীয় চাকরিজীবী নন, প্রবাসী পরিবারও বড় ক্রেতা। লন্ডন, আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাঠানো টাকায় অনেক পরিবার সিলেটে একটা স্থায়ী ঠিকানা গড়তে চায়। কারও জন্য সেটা অবসরের বাড়ি, কারও জন্য বাবা-মায়ের থাকার জায়গা, কারও জন্য দেশে ফিরে আসার পরের ঘর।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে আরেকটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। আখালিয়া আর আশপাশের এলাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা আর ছাত্রছাত্রীদের পরিবার বাসা খোঁজে। তাদের চাহিদা বড় ফ্ল্যাট নয়, বরং নিরাপদ, আলো-বাতাস আছে এমন মাঝারি ফ্ল্যাট। স্কুল কাছে হলে পরিবারের জন্য সুবিধা হয়। বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াত সহজ হলে ভাড়াটিয়াও টিকে থাকে বেশি দিন।
কোন এলাকায় খোঁজ বেশি
জিন্দাবাজার আর আম্বরখানা এখনো শহরের প্রাণ। দোকান, ব্যাংক, হাসপাতাল আর অফিস সব কাছে থাকায় এখানে ফ্ল্যাটের চাহিদা থাকে। তবে জায়গা কম, দামও তুলনামূলক বেশি। শাহজালাল উপশহর আর শিবগঞ্জের দিকে পরিবারগুলো একটু খোলামেলা পরিবেশ খোঁজে। সেখানে রাস্তা চওড়া, বাসা থেকে বাজার যাওয়া সহজ। শহরের বাইরের দিকে, যেমন টিলাগড় বা মেজরটিলা এলাকায়, জমি আর ছোট ভবনের খোঁজও আছে। তবে সেখানে কেনার আগে রাস্তা, পানি আর বিদ্যুতের অবস্থা নিজে দেখে নেওয়া জরুরি।
প্রবাসী ক্রেতাদের একটা বড় সমস্যা হলো দূর থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ছবিতে ফ্ল্যাট সুন্দর লাগে, কিন্তু বাস্তবে আলো কম হতে পারে, কিংবা বর্ষায় পানি জমতে পারে। তাই পরিবারের কেউ সরেজমিনে দেখে, কাগজ যাচাই করে তারপর টাকা দেওয়া উচিত। দলিলের ধারাবাহিকতা, নামজারি, ভবনের অনুমোদন আর হস্তান্তরের শর্ত লিখিতভাবে পরিষ্কার থাকতে হবে। মুখের কথায় ভরসা করে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া ঠিক নয়।
ভাড়ার বাজার আর পরিবারের হিসাব
সিলেটে ভাড়ার বাজারও প্রবাসী আর শিক্ষার্থী পরিবারের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। শহরের কেন্দ্রে ছোট ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সহজে মেলে, তবে ভাড়া এলাকা আর ভবনভেদে অনেক পার্থক্য হয়। কোনো নির্দিষ্ট গড় ভাড়ার অঙ্ক ধরে হিসাব করা ঠিক হবে না। একই এলাকায় পুরোনো ভবন আর নতুন ভবনের ভাড়া আলাদা। লিফট, জেনারেটর, নিরাপত্তা আর পানির ব্যবস্থা থাকলে সার্ভিস চার্জও বাড়ে।
কেনার আগে একটা সহজ হিসাব করে নেওয়া ভালো। মাসিক কিস্তি, সার্ভিস চার্জ, রক্ষণাবেক্ষণ আর কর মিলিয়ে মোট খরচ কত দাঁড়ায়, সেটা পরিবারের নিয়মিত আয়ের সঙ্গে মেলে কি না, তা দেখতে হবে। প্রবাস থেকে টাকা এলে আয়ের ধারাবাহিকতা কেমন থাকবে, সেটাও ভাবতে হবে। বাসা কেনা একটা দীর্ঘ সিদ্ধান্ত। তাড়াহুড়ো করে নয়, এলাকা ঘুরে, কাগজ দেখে আর মোট খরচ হিসাব করে কিনলে সিলেটের বাসা পরিবারের জন্য সত্যিকারের ঠিকানা হয়ে ওঠে।


