ঢাকায় ফ্ল্যাট খুঁজতে গেলে একসময় কাজটা ছিল হাঁটার কাজ। এলাকা ঘোরা, দেয়ালে লাগানো কাগজ পড়া, দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলা, আর পরিচিত কারও মুখে শোনা খবর। এখন সেই হাঁটার একটা বড় অংশ ফোনের পর্দায় সরে এসেছে। অক্টোবরের শেষে চালু হওয়া Property64 সেই বদলের নতুন উদাহরণ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর চালু হওয়া এই মার্কেটপ্লেসে সারা দেশের ফ্ল্যাট, জমি, বাড়ি, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোস্টেল আর সাবলেটের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাচ্ছে।

প্ল্যাটফর্মের কথা অনুযায়ী, বিক্রেতা বা ভাড়া দেওয়ার পক্ষ নিজের পরিচয় জানিয়ে বিজ্ঞাপন দেবে। মালিক, প্রতিনিধি, এজেন্ট, এজেন্সি, ডেভেলপার, নানা পক্ষের নাম আলাদা করে লেখা থাকবে। ক্রেতা ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে বা প্ল্যাটফর্মের ভেতরের বার্তায় যোগাযোগ করতে পারবে। আরেকটি ব্যবস্থায় ক্রেতা নিজের চাহিদা জানিয়ে রাখতে পারবে, মিলে যাওয়া বিজ্ঞাপন এলে বিক্রেতা খবর পাবে। প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান সোহানের কথা হিসেবে জানানো হয়েছে, পোস্ট করা আর খুঁজে পাওয়া যেন সহজ আর দ্রুত হয়, সেটাই লক্ষ্য।

কেন এক জায়গায় খোঁজা কাজে লাগে

Estate News — Find your dream home

ফেসবুক গ্রুপ আর ছড়িয়ে থাকা শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপনের পাতায় খোঁজার সমস্যাটা অনেকেই চেনেন। একই ফ্ল্যাটের নানা দাম, পুরোনো বিজ্ঞাপন, আর কে আসলে বিক্রেতা, তা বোঝা কঠিন। একটি নির্দিষ্ট আবাসন মার্কেটপ্লেস সেই বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমাতে পারে, যদি বিজ্ঞাপনে এলাকা, আয়তন, দাম, আর বিক্রেতার পরিচয় স্পষ্ট থাকে। সারা দেশের বিজ্ঞাপন এক জায়গায় এলে ঢাকার বাইরের ক্রেতার জন্যও তুলনা করা সহজ হয়।

এই ধারা শুধু একটি প্ল্যাটফর্মের নয়। প্রথম আলোর অনলাইন আবাসন মেলার নবম আসর এ বছর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। আয়োজকদের হিসেবে জানানো হয়েছে, ২৫টি স্টল আর ১০৫টি প্রকল্পে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার দর্শক আসেন, পাতা দেখা হয় প্রায় ১০ লাখ বার, আর জিজ্ঞাসা জমা পড়ে ৮ হাজারের বেশি। অর্থাৎ ঘরে বসে প্রকল্প দেখা এখন আর ব্যতিক্রম নয়, অনেক ক্রেতার প্রথম ধাপ হয়ে উঠেছে।

পর্দায় যা দেখা যায় না

Advertise on Estate News

তবু পর্দার সীমা আছে, আর সেই সীমা না বুঝলে ক্ষতি হয়। ছবিতে ফ্ল্যাট বড় দেখায়। আলো ভালো থাকলে পুরোনো রংও নতুন মনে হয়। বিজ্ঞাপনে লেখা দাম চাওয়া দাম, চূড়ান্ত দাম নয়। আর কোনো প্ল্যাটফর্মের তালিকায় থাকা মানেই জমির কাগজ ঠিক আছে, এমন নয়। দলিলের ধারাবাহিকতা, মিউটেশন, অনুমোদিত নকশা, এসব যাচাই প্ল্যাটফর্ম করে দেয় না।

তাই ব্যবহারের নিয়মটা সহজ রাখা ভালো। বিজ্ঞাপন দিয়ে খোঁজ শুরু করুন, সিদ্ধান্ত নিন মাঠে গিয়ে। দিনের আলোয় ফ্ল্যাট দেখুন, আবার সন্ধ্যায় লেনটা দেখুন। পানির চাপ, লিফট, জেনারেটর, পার্কিং, এসব নিজে পরীক্ষা করুন। প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলুন। আর দাম ঠিক করার আগে একই এলাকায় একই ধরনের কয়েকটি ফ্ল্যাটের চাওয়া দাম মিলিয়ে দেখুন। আইনজীবীকে দিয়ে কাগজ দেখানো এই ধাপের অংশ, বাড়তি ঝামেলা নয়।

নতুন প্ল্যাটফর্মকে কীভাবে মাপবেন

Property64 এখনো নতুন। এর আসল পরীক্ষা হবে সময়ের সঙ্গে। বিজ্ঞাপন কতটা হালনাগাদ থাকে, পুরোনো বিজ্ঞাপন সরানো হয় কি না, ভুল তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এসবই ঠিক করবে ক্রেতা এখানে ভরসা রাখবে কি না। বিক্রেতার পরিচয় স্পষ্ট করার প্রতিশ্রুতি ভালো শুরু, কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের মিল ক্রেতাই যাচাই করবে, প্রতিটি বিজ্ঞাপনে।

ঢাকার আবাসন বাজারে প্রযুক্তির কাজ তাই দুই রকম। খোঁজা সহজ করা, আর ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমানো। প্রথম কাজটা প্ল্যাটফর্ম করতে পারে। দ্বিতীয় কাজটা ক্রেতার হাতেই থাকবে। ফোনের পর্দা দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু ঘরে ঢুকে দেখা, কাগজ মেলানো, আর দাম নিয়ে ঠান্ডা মাথায় কথা বলার কাজটা এখনো মানুষের।