নভেম্বর বাংলাদেশের নির্মাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস। বর্ষা সরে গেছে, মাঠ শুকিয়েছে, আর সাইটে কাজের গতি বাড়ে। রডের দোকানে এই সময় ক্রেতার আনাগোনা বাড়ে, কারণ ছাদ ঢালাই, কলাম আর বিমের কাজ শুকনো মৌসুমেই এগিয়ে রাখতে চান অনেকে।
কিন্তু চাহিদা বাড়লেই বাজার সহজ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের ইস্পাত শিল্প এখন এক অদ্ভুত অবস্থায় আছে: কারখানা আছে, চাহিদাও আছে, তবু অনেক মিল পুরো ক্ষমতায় চলছে না। এই ফারাকটাই রডের বাজার বুঝতে সাহায্য করে।
ক্ষমতা আছে, ব্যবহার কম
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের জুনের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে রডের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ টন, আর উৎপাদন ক্ষমতা এক কোটি টনের বেশি। ফলে বেশির ভাগ মিল অর্ধেকের কম ক্ষমতায় চলছে। ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংগঠনটি তখন জানায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ায় প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ বেড়েছে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। বন্দর ফি, ল্যান্ডিং চার্জ আর পরিবহন খরচ মিলিয়ে আরও ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা যোগ হয়েছে।
এই হিসাব শুধু বড় কোম্পানির নয়। বিএসআরএম, কেএসআরএম, জিপিএইচ ইস্পাত আর আরএসআরএমের মতো বড় নামগুলোও একই কাঁচামাল আর জ্বালানি বাজারের মুখোমুখি। স্ক্র্যাপ, অর্থাৎ পুরোনো লোহার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে উঠলে দেশের মিলের খরচও ওঠে। আবার চাহিদা কম থাকলে সেই খরচ পুরোপুরি দামে তোলা যায় না, কারণ ক্রেতা তখন কেনা পিছিয়ে দেন।
ক্রেতা আর নির্মাতার জন্য এর মানে কী
বাড়ি বানাচ্ছেন এমন ক্রেতার জন্য নভেম্বরের শিক্ষা দাম নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়, পরিকল্পনা নিয়ে। একসঙ্গে পুরো রড না কিনে ধাপে ধাপে কেনা, ব্র্যান্ড আর গ্রেড লিখিতভাবে নিশ্চিত করা, আর মজুতের জায়গা ঠিক রাখা, এসবই খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ডিলারের মুখের দাম আর বিলের দাম এক কিনা, সেটা যাচাই করাও জরুরি।
ডেভেলপারদের জন্য প্রশ্নটি আরও বড়। একটি প্রকল্পের বাজেটে রডের দাম সামান্য নড়লেও মোট খরচে তার প্রভাব পড়ে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান এখন উপকরণ কেনার সময়সূচি আগেভাগে ঠিক করে, যাতে শুকনো মৌসুমের চাপের সময় হঠাৎ কেনাকাটা করতে না হয়।
ছোট ঠিকাদার আর মিস্ত্রির জন্য রড কেনা আরও স্পর্শকাতর। তাঁরা একসঙ্গে বেশি টাকা আটকে রাখতে পারেন না। তাই তাঁদের কেনা চলে ধাপে ধাপে, কাজের অগ্রগতির সঙ্গে মিলিয়ে। এই সময় ডিলারের সঙ্গে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিচিত ডিলার গ্রেড আর ওজন নিয়ে কম ঝামেলা করেন, আর জরুরি সময়ে মাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে পরিচয় কখনো কাগজের বিকল্প নয়। বিলে ব্র্যান্ড, গ্রেড আর ওজন লেখা থাকলে পরে অভিযোগ করার জায়গা থাকে।
আরেকটি বিষয় হলো মজুত। রড খোলা জায়গায় বৃষ্টিতে পড়ে থাকলে মরচে ধরে, আর মরচে ধরা রডের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুকনো মৌসুমেও সকালের শিশির আর ধুলো রডের গায়ে জমে। তাই কাঠের তক্তার ওপর রড রাখা, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা আর ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করে নেওয়া, এসব ছোট কাজই নির্মাণের মান ধরে রাখে।


