পুরোনো ফ্ল্যাট দেখতে গিয়ে সবার চোখ প্রথমে যায় রঙ আর টাইলসের দিকে। নতুন রঙ করা দেয়াল, পরিষ্কার মেঝে আর সাজানো ড্রইংরুম দেখে মনে হয়, ফ্ল্যাটটা তৈরি। আসল গল্পটা থাকে দেয়ালের ভেতরে, ছাদে আর লিফটের ঘরে। সেগুলো না দেখে দাম ঠিক করলে মেরামতের বিল পরে এসে বাজেট উল্টে দিতে পারে।
পরিদর্শনে যান দিনের আলোয়, আর সঙ্গে নিন একজন অভিজ্ঞ মিস্ত্রি বা প্রকৌশলী, যিনি প্লাম্বিং আর বিদ্যুতের কাজ চেনেন। বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার সময় ফ্ল্যাটের বয়স, আগের বড় মেরামত আর ভবনের যৌথ খরচের ইতিহাস জিজ্ঞেস করুন। উত্তরগুলো নোট করে রাখুন, মুখে শোনা কথা পরে প্রমাণ হয় না।
পানি আর প্লাম্বিং: দাগ দেখলেই থামুন
বাথরুম আর রান্নাঘরের দেয়ালে পানির দাগ, ফুলে ওঠা রঙ বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ থাকলে সেটা হালকাভাবে নেবেন না। কল ছেড়ে দেখুন পানির চাপ কেমন, নিচের তলায় পানি নামতে কত সময় লাগে, আর একসঙ্গে দুটো কল চালালে চাপ কমে যায় কি না। পুরোনো ভবনে লোহার পাইপে মরচে ধরে ভেতর থেকে সরু হয়ে যায়, বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না। পানির ট্যাংক, পাম্প আর ছাদের পাইপলাইন দেখে নিন। ছাদে পানি জমে থাকলে সেটা নিচের ফ্ল্যাটের ছাদে চুঁইয়ে পড়ার লক্ষণ হতে পারে।
বিদ্যুৎ: বোর্ড খুলে দেখুন
পুরোনো ফ্ল্যাটের বিদ্যুতের বোর্ড অনেক সময় বর্তমান চাহিদার জন্য তৈরি হয়নি। এসি, গিজার, ওভেন আর ওয়াশিং মেশিন একসঙ্গে চললে পুরোনো তার গরম হতে পারে। বোর্ডে সার্কিট ব্রেকার আছে কি না, তারের অবস্থা কেমন, আর আর্থিং ঠিক আছে কি না, তা একজন ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে যাচাই করান। সুইচবোর্ডে পোড়া দাগ বা গন্ধ থাকলে সেটা সতর্ক সংকেত। নতুন করে পুরো ফ্ল্যাটের ওয়্যারিং বদলাতে হলে খরচটা দামের সঙ্গে যোগ করে হিসাব করুন।
ছাদ, লিফট আর যৌথ অংশ
ছাদে উঠে দেখুন ফাটল, জমে থাকা পানি আর আগের মেরামতের চিহ্ন আছে কি না। ছাদের দরজা বন্ধ থাকে কি না, আর সেখানে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে কি না, তাও দেখুন। লিফটে উঠুন, থামার সময় ঝাঁকুনি হয় কি না লক্ষ করুন। লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি আছে কি না, আর গত এক বছরে বড় মেরামত হয়েছে কি না, সমিতির কাছে জানতে চান। সিঁড়িঘর, পার্কিং আর পানির পাম্পের ঘরও দেখুন। যৌথ অংশের অবস্থা খারাপ হলে খরচটা একা আপনার নয়, কিন্তু তার ভাগ আপনাকেও বহন করতে হবে।
পরিদর্শন শেষে মেরামতের একটা আনুমানিক তালিকা বানান। কোন কাজ জরুরি, কোনটা পরে করা যাবে, আর প্রতিটার খরচ কত হতে পারে, তা লিখুন। এই তালিকা হাতে থাকলে দরদাম করার সময় আপনি অনুমানের ওপর ভরসা করছেন না, বাস্তব অঙ্কের ওপর কথা বলছেন। পুরোনো ফ্ল্যাট খারাপ নয়, কিন্তু তার আসল দাম বোঝা যায় মেরামতের খরচ যোগ করার পর।




