ঢাকায় বাড়ি কেনার স্বপ্ন বহু মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এখনো দূরের স্বপ্ন। জমির দাম, নির্মাণ ব্যয় আর ঋণের সুদের হার — তিনটি মিলে ফ্ল্যাটের দাম এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে বহু পরিবারের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নতুন নেতৃত্ব সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে.
সংগঠনের নতুন সভাপতি আলী আফজাল ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছে, ঢাকা ও আশপাশে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ছোট আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। তাদের যুক্তি, ছোট ফ্ল্যাট হলে দাম কমবে, আর দীর্ঘদিন বাড়ি কেনা থেকে বঞ্চিত নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার বাজারে ফিরতে পারবে.
ছোট ফ্ল্যাট মানেই কি সাশ্রয়ী?
দাম কমানোই শেষ কথা নয়। ক্রেতাকে দেখতে হবে — ফ্ল্যাটের প্রকৃত আয়তন কত, রাজউকের অনুমোদন আছে কি না, নির্মাতার আগের প্রকল্প সময়মতো হস্তান্তর হয়েছে কি না, আর হস্তান্তরের পর সার্ভিস চার্জ কত দাঁড়াবে। ছোট ফ্ল্যাটে যদি সার্ভিস চার্জ বেশি হয়, তাহলে মাসিক খরচের সাশ্রয় অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়.
- বিজ্ঞাপনের আয়তন নয়, প্রকৃত কার্পেট এরিয়া যাচাই করুন।
- রাজউক অনুমোদন ও নির্মাতার হস্তান্তর রেকর্ড দেখুন।
- ঋণের কিস্তি, রেজিস্ট্রেশন খরচ ও সার্ভিস চার্জ একসঙ্গে হিসাব করুন।
- অবস্থান দেখুন — মেট্রো, স্কুল ও হাসপাতালের দূরত্ব দৈনন্দিন জীবনে বড় পার্থক্য গড়ে।
সাশ্রয়ী আবাসনের আসল পরীক্ষা দামের অঙ্কে নয় — সেই ফ্ল্যাটে পরিবারটি টিকে থাকতে পারে কি না, সেই প্রশ্নে।
যা এখনো বাধা
রিহ্যাব নেতৃত্ব নিজেই স্বীকার করেছে, উচ্চ রেজিস্ট্রেশন খরচ, ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জটিলতা ও প্রকল্প অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া এখনো বড় বাধা। উঁচু ভবন নির্মাণ ও আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যয় কমাতে পারে, কিন্তু সরকারি নীতি সহায়তা ছাড়া শুধু নির্মাতাদের উদ্যোগে দাম খুব বেশি কমবে না। ক্রেতাদের তাই ঘোষণা নয়, হস্তান্তর হওয়া প্রকল্পের দাম ও মান দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
প্রতিদিনের সম্পত্তি, বাজার ও অর্থের খবর পেতে ফেসবুকে Estate News ফলো করুন: https://www.facebook.com/profile.php?id=61593817347872